
কোহিনূর আলম,কেন্দুয়া (নেত্রকোণা)প্রতিনিধিঃ
নেত্রকোণার কেন্দুয়ায় সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম (এলপি) গ্যাস বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। ১২ কেজির একটি গ্যাস সিলিন্ডারের সরকার নির্ধারিত মূল্য ১ হাজার ৫৮৫ টাকা হলেও তা কিনতে ভোক্তাদের গুনতে হচ্ছে সর্বোচ্চ ২ হাজার টাকা পর্যন্ত। একই সঙ্গে সরবরাহ কমে যাওয়ায় সংকট আরও ঘনীভূত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন খুচরা বিক্রেতা ও পরিবেশকরা।
সরেজমিনে ভোক্তা,খুচরা বিক্রেতা ও পরিবেশকদের সঙ্গে কথা বলে এলপি গ্যাসের দাম ও সরবরাহ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে।
ভোক্তাদের অভিযোগ, নিত্যপ্রয়োজনীয় এই পণ্যের দাম সরকার নির্ধারণ করে দিলেও বাস্তবে তা মানা হচ্ছে না। নির্ধারিত দামেই যেখানে সংসারের ব্যয় সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে, সেখানে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে গ্যাস কিনতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। এ পরিস্থিতিতে প্রশাসনের নিয়মিত বাজার মনিটরিং এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
খুচরা বিক্রেতারা অবশ্য বলছেন, তারা পরিবেশকদের কাছ থেকে যে দামে গ্যাস কিনছেন,সেই দামে বিক্রি করলে তাদের ব্যবসায় লোকসান গুনতে হচ্ছে। ফলে ক্রয়মূল্যের সঙ্গে পরিবহন ও অন্যান্য খরচ সমন্বয় করতে গিয়ে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে বলে দাবি তাদের।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, কেন্দুয়া উপজেলায় বর্তমানে এলপি গ্যাস সরবরাহকারী মোট তিনটি পরিবেশক প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পরিবেশক অভিযোগ করে বলেন, বিভিন্ন অপারেটর বা কোম্পানি তাদের কাছ থেকে উচ্চমূল্যে গ্যাস কিনতে বাধ্য করছে। পাশাপাশি বিভিন্ন কমিশন থেকেও তাদের বঞ্চিত করা হচ্ছে। ফলে তারাও খুচরা বিক্রেতাদের কাছে কিছুটা বেশি দামে গ্যাস বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন,কোম্পানিগুলো সরবরাহ কমিয়ে দেওয়ায় বাজারে সংকট তৈরি হয়েছে।এ ক্ষেত্রে কৃত্রিম সংকটের অভিযোগও রয়েছে। বিষয়টি যথাযথ কর্তৃপক্ষকে জানিয়েও কার্যকর সমাধান বা সন্তোষজনক জবাব পাওয়া যাচ্ছে না বলে দাবি করেন তিনি। বর্তমান পরিস্থিতিতে ব্যবসা চালিয়ে নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানান ওই পরিবেশক।
অন্যদিকে ভোক্তারা বলছেন, সাধারণ মানুষের কথা বিবেচনা করে এলপি গ্যাসের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখা জরুরি। পাশাপাশি সরকার নির্ধারিত মূল্যে গ্যাস বিক্রি নিশ্চিত করতে প্রশাসনের নিয়মিত বাজার মনিটরিং জোরদার, অনিয়মের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা এবং আইন অনুযায়ী জরিমানাসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এলপি গ্যাসের মূল্য ও সরবরাহ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ক্ষোভ ও আক্ষেপ প্রকাশ করছেন অনেকে ভুক্তভোগী।তাদের দাবি,সরবরাহ সংকট ও অতিরিক্ত দামে বিক্রির প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হোক।
