সর্বশেষ
4 Oct 2026, Sun

৬০ বছর পর নাড়ির টানে জন্মভূমি কেন্দুয়ায় বেলা দত্ত

মাজহারুল ইসলাম উজ্জ্বল,
কেন্দুয়া(নেত্রকোণা)প্রতিনিধিঃ

শৈশবের স্মৃতি,মাটির টান আর জন্মভূমির প্রতি গভীর ভালোবাসা মানুষকে যে কতটা আবেগাপ্লুত করতে পারে,তারই এক অনন্য দৃষ্টান্ত রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী ও গল্পকার বেলা দত্ত। দীর্ঘ ৬০ বছর পর নাড়ির টানে নিজের জন্মভূমি নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় ফিরেছেন তিনি।

রবিবার (৪ অক্টোবর)কেন্দুয়া উপজেলা মিডিয়া ক্লাবের সভাপতি সমকাল এর উপজেলা প্রতিনিধি সমরেন্দ্র বিশ্বশর্মার অফিসে আকস্মিকভাবে দেখা হয় প্রিয় বেলাদির সাথে।

আড্ডাপ্রিয় ও সংস্কৃতিমনা বেলা দত্ত বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার জেলা সদরের স্থায়ী বাসিন্দা। তবে শেকড়ের টান কখনো মুছে যায়নি। তাই ছয় দশক পর আবারও ফিরে এসেছেন শৈশবের সেই পরিচিত শহর কেন্দুয়ায়। ফিরে এসে তিনি ঘুরে দেখছেন নিজের বেড়ে ওঠার স্থান, পরিচিত মানুষজন ও স্মৃতিবিজড়িত এলাকা।

বেলা দত্ত ১৯৫৩ সালের ১ জানুয়ারি কেন্দুয়া বাজার এলাকায় জয়হরি স্প্রাই সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের পেছনে স্বর্গীয় মনীন্দ্র চন্দ্র দে-এর ঘরে জন্মগ্রহণ করেন। চার বোন ও দুই ভাইয়ের মধ্যে তিনি জ্যেষ্ঠ।

শৈশবের পড়াশোনাও কেন্দুয়াতেই। তিনি কেন্দুয়ার ঐতিহ্যবাহী জয়হরি স্প্রাই সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণি পাশ করার পর বাবার সঙ্গে কলকাতায় চলে যান।সেখানেই তার জীবনের পরবর্তী অধ্যায় শুরু হয়।

সংস্কৃতির প্রতি ছোটবেলা থেকেই তার ছিল গভীর অনুরাগ। রবীন্দ্রসংগীত চর্চার পাশাপাশি গল্প লেখাতেও রয়েছে তার আগ্রহ। গান, গল্প আর আড্ডার মধ্য দিয়ে তিনি নিজের সাংস্কৃতিক জীবনকে সমৃদ্ধ করেছেন।

দীর্ঘ সময় দেশের বাইরে থাকলেও জন্মভূমির স্মৃতি তাকে সবসময়ই টেনেছে। সেই টানেই এবার ৬০ বছর পর কেন্দুয়ায় এসে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বেলা দত্ত।পরিচিত-অপরিচিত মানুষের সঙ্গে দেখা করছেন,পুরোনো দিনের স্মৃতিচারণ করছেন এবং শৈশবের নানা গল্প শোনাচ্ছেন।

বর্তমানে তার দুই ছেলে কলকাতায় চাকরি করছেন।বেলা দত্ত জানান, আগামী দুর্গাপূজা পর্যন্ত তিনি কেন্দুয়ায় অবস্থান করবেন। দীর্ঘদিন পর জন্মভূমিতে এসে তার মধ্যে যেন ফিরে এসেছে শৈশবের সেই দিনগুলোর স্মৃতি।

বেলা দত্তের এই প্রত্যাবর্তন শুধু একজন মানুষের নিজ শহরে ফিরে আসা নয়,এটি যেন শেকড়ের কাছে ফিরে আসার এক আবেগঘন গল্প। ছয় দশক পরও জন্মভূমির মাটি যে মানুষের হৃদয়ে কতটা গভীরভাবে জায়গা করে থাকে,বেলা দত্তের ফিরে আসা তারই এক জীবন্ত উদাহরণ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *