সর্বশেষ
4 Nov 2026, Wed

হাওড় অঞ্চল থেকে সিলেটের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে পরিচিত মুখ গীতিকার মাসুক হাসান

ডেস্ক রিপোর্টঃ

হাওর অঞ্চল থেকে এসে সিলেটের মূলধারার সাংস্কৃতিক অঙ্গনে উল্লেখযোগ্য একটি নাম মাসুক হাসান।নেত্রকোণার খালিয়াজুরীর হাওড়ঘেরা জনপদ বল্লী গ্রামে জন্ম তাঁর।শৈশব-কৈশোর কেটেছে হাওড়ের প্রকৃতি,মানুষের জীবনযাপন ও লোকজ সংস্কৃতির আবহে। সেই শেকড়ের টান আর সংগীতের প্রতি গভীর ভালোবাসা থেকেই গানের জগতে পথচলা শুরু। দীর্ঘদিন ধরে গান লিখে এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থেকে নিজের পরিচিতি গড়ে তুলেছেন গীতিকার মাসুক হাসান। বর্তমানে তিনি সিলেটে অবস্থান করছেন। গানের পাশাপাশি বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি।

মাসুক হাসানের বাড়ি হাওর অঞ্চল নেত্রকোণার খালিয়াজুরী উপজেলার বল্লী গ্রামে। তাঁর বাবা কালা মিয়া।হাওড়া অঞ্চলের হাওর-বাওড়,মেঠো পথ আর সাধারণ মানুষের দুঃখ-কষ্টের জীবনকে যিনি গানের বাণীতে রূপ দিয়েছিলেন,তাঁর সেই সৃষ্টিগুলো আজ সিলেটের সাংস্কৃতিক মঞ্চ থেকে শুরু করে আধুনিক নগর জীবনের তরুণ প্রজন্মের মুখে মুখে ফেরে।২০০১ সাল থেকে গান লেখা শুরু করেন তিনি।দীর্ঘ এই পথচলায় নিজের ভাবনা, অনুভূতি,আধ্যাত্মিকতা ও লোকজ ঐতিহ্যকে গানের কথায় তুলে ধরেছেন। তাঁর লেখা অসংখ্য গান বিভিন্ন শিল্পীর কণ্ঠে বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক আয়োজনে পরিবেশিত হচ্ছে।

মাসুক হাসানের গানে বিশেষভাবে উঠে এসেছে মরমি সাধক, আধ্যাত্মিক বিশ্বাস ও ধর্মীয় ভাবধারা।পীরেকামেল আকবর লেংটা শাহের ভক্ত হিসেবে তাঁকে নিয়েও গান লিখেছেন তিনি। এ ছাড়া হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার এবং হবিগঞ্জের মাধবপুরে অবস্থিত হযরত শাহ সোলেমান ফতেহ গাজীর মাজার নিয়েও গান রচনা করেছেন। এসব গানের মধ্য দিয়ে আধ্যাত্মিক ভাবনা ও সাধক-ভক্তির বিষয়গুলো তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন তিনি।

গান রচনা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বিভিন্ন সময়ে সম্মাননা স্মারক পেয়েছেন মাসুক হাসান। এসব স্বীকৃতি তাঁর দীর্ঘদিনের সংগীতচর্চার পথে অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করছে। তবে সম্মাননার চেয়ে গান লেখা এবং মানুষের কাছে নিজের সৃষ্টিকে পৌঁছে দেওয়াকেই বেশি গুরুত্ব দেন তিনি।

গীতিকার পরিচয়ের পাশাপাশি সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় মাসুক হাসান। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী বাউল দল, সিলেট জেলা শাখার সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি রাগীব রাবেয়া লোকসংস্কৃতি ও গবেষণা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সিলেট শাখার দপ্তর সম্পাদক এবং ফকির শীতালং শাহ শিল্পীগোষ্ঠী, সিলেটের সহ-সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও যুক্ত রয়েছেন।

তাঁর এই সাংস্কৃতিক পথচলায় পরিবারের অবদানও গুরুত্বপূর্ণ। গান লেখা ও সংগীতচর্চায় পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে সবচেয়ে বেশি সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণা পেয়েছেন বলে জানান তিনি। পরিবারের সমর্থন তাঁকে সৃষ্টিশীল কাজ চালিয়ে যেতে সাহস জুগিয়েছে।

নিজের সংগীতজীবন সম্পর্কে মাসুক হাসান বলেন, ‘২০০১ সাল থেকে গান লিখছি। পীরেকামেল আকবর লেংটা শাহের ভক্ত হিসেবে তাঁকে নিয়েও গান লিখেছি। এ ছাড়া হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার এবং হবিগঞ্জের মাধবপুরে হযরত শাহ সোলেমান ফতেহ গাজীর মাজার নিয়েও গান রচনা করেছি। সংগীতের প্রতি ভালোবাসা থেকেই আমার এই পথচলা। ভবিষ্যতেও গানের মাধ্যমে মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিতে চাই।’

খালিয়াজুরীর হাওড়ের জনপদ থেকে সিলেটের সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল—মাসুক হাসানের এই যাত্রা একজন গীতিকারের নিষ্ঠা, ভালোবাসা ও সৃষ্টিশীলতার গল্প। নিজের শেকড়ের স্মৃতি, লোকজ সংস্কৃতি ও আধ্যাত্মিক ভাবনাকে ধারণ করে বাংলা গানের ভুবনে আরও অবদান রাখতে চান তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *