সর্বশেষ
16 Sep 2026, Wed

২৪ ঘণ্টায় বিদ্যুৎ মাত্র ৩ ঘণ্টা-কেন্দুয়ায় তাহলে ৪৫% লোডশেডিংয়ের হিসাব কোথায়?

মাজহারুল ইসলাম উজ্জ্বল
কেন্দুয়া (নেত্রকোণা)প্রতিনিধিঃ

নেত্রকোণার কেন্দুয়ায় তীব্র বিদ্যুৎ সংকট ও লাগামহীন লোডশেডিংয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির গ্রাহকরা।সরকারি হিসাবে ৪৫ শতাংশ লোডশেডিং দেখানো হলেও বাস্তব চিত্র যেন তার চেয়েও ভয়াবহ। স্থানীয় ভুক্তভোগীদের অভিযোগ,কেন্দুয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ১ নম্বর ফিডারে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দিনে-রাতে মিলিয়ে সর্বোচ্চ প্রায় ৩ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। অর্থাৎ প্রায় ২১ ঘণ্টাই বিদ্যুৎহীন থাকতে হচ্ছে গ্রাহকদের।

সোমবার(১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টায় পাওয়া অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী,জাতীয় গ্রিডে মোট চাহিদা ছিল ১৪০ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে বরাদ্দ পাওয়া যায় ৮৫ মেগাওয়াট, ফলে ঘাটতি ছিল ৫৫ মেগাওয়াট।

একই সময়ে নেত্রকোণা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মোট চাহিদা ছিল ১০৯ মেগাওয়াট। বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যায় মাত্র ৬০ মেগাওয়াট। অর্থাৎ সমিতির হিসাবে ঘাটতি ছিল ৪৯ মেগাওয়াট। কাগজে-কলমে এই ঘাটতির হিসাব থাকলেও কেন্দুয়ার মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন গ্রাহকরা।

গ্রাহকদের অভিযোগ,বিদ্যুৎ সরবরাহের সরকারি হিসাবের সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতির কোনো মিল নেই। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় প্রচণ্ড গরমে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ব্যাহত হচ্ছে ব্যবসা-বাণিজ্য ও স্বাভাবিক কার্যক্রম।একই সঙ্গে বিদ্যুৎ সংকটের কারণে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনাও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

বিদ্যুৎ না থাকার পাশাপাশি জরুরি প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পারার অভিযোগও রয়েছে। কেন্দুয়া জোনাল অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিভিন্ন মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

বিষয়টি কেন্দুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানজিদা চৌধুরীকে জানানো হলে তিনি জেলা বিদ্যুৎ সমিতিকে বিষয়টি অবহিত করার পরামর্শ দেন।পরে নেত্রকোণা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজারের মোবাইল নম্বরেও যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া পাওয়া যায়নি।

এদিকে কেন্দুয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির একটি হোয়াটএ্যাপ গ্রুপে বিদ্যুৎ সংকট এবং গ্রাহকদের ফোন করেও সাড়া না পাওয়ার অভিযোগ জানানো হলে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন সমিতির অতিরিক্ত জেনারেল ম্যানেজার (এজিএম)। তিনি গণমাধ্যমকর্মীর কাছে অভিযোগের প্রমাণ দেখতে চান।

পরবর্তীতে গণমাধ্যমকর্মী কলের প্রমাণ উপস্থাপন করলে এজিএম জানান, হয়তো অন্য নম্বরে কল করা হয়েছিল অথবা তিনি নামাজে ছিলেন। একই সঙ্গে তার কাছ থেকেই জাতীয় গ্রিড থেকে প্রাপ্ত বিদ্যুতের বরাদ্দ ও লোডশেডিংয়ের পরিমাণের তথ্য জানা যায়।

কেন্দুয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সহকারি জেনারেল ম্যানেজার (এজিএম) প্রকৌশলী মোঃ শেখ ফরিদ বলেন, চাহিদা অনুযায়ী জাতীয় গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ না পাওয়ায় তাদের কিছু করার নেই। জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ না বাড়লে এ সংকট কাটানোর কোনো পথ তাদের হাতে নেই।

কেন্দুয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) প্রকৌশলী মোঃ ওমর ফারুক মুঠোফোনে বলেন, জরুরী মিটিংয়ের জন্য তিনি ঢাকায় আছেন, জরুরী প্রয়োজনে এজিএম এর সাথে কথা বলার কথা পরামর্শ দেন তিনি।

তবে গ্রাহকদের প্রশ্ন-সরকারি হিসাবে যদি লোডশেডিং ৪৫ শতাংশ হয়, তাহলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মাত্র প্রায় ৩ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাওয়ার বাস্তবতা কীভাবে ব্যাখ্যা করবে কর্তৃপক্ষ? আর দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকার প্রকৃত কারণ ও ফিডারভিত্তিক লোডশেডিংয়ের হিসাবই বা গ্রাহকদের কাছে কতটা স্বচ্ছভাবে তুলে ধরা হচ্ছে?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *