
কোহিনূর আলম, কেন্দুয়া (নেত্রকোণা) প্রতিনিধিঃ
নেত্রকোণার কেন্দুয়ার বিখ্যাত সংগীতশিল্পী,সঙ্গীত পরিচালক, সুরকার এবং স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শব্দসৈনিক মলয় কুমার গাঙ্গুলী (৮৩) আর নেই।তিনি সকলকে কাঁদিয়ে ইহলোক ত্যাগ করেছেন।
সোমবার (১২ জানুয়ারী)রাতে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। এরই সাথে শেষ হলো তাঁর সাত দশকের সঙ্গীত সাধনা।
মলয় কুমার গাঙ্গুলীর জন্ম কেন্দুয়ার মোজাফরপুর ইউনিয়নের মোজাফরপুর গ্রামে ১৯৪৪ সালে।এই গুণী মানুষটির জীবন জুড়ে ছিলো দেশপ্রেম আর সুরের সাধনা।
১৯৭১ সালের উত্তাল দিনগুলোতে কণ্ঠকে অস্ত্র বানিয়ে যুদ্ধ করেছিলেন এই প্রখ্যাত শিল্পী ও সুরকার মলয় কুমার গাঙ্গুলী। তিনি কলকাতায় গিয়ে যোগ দেন স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্রে।বালিগঞ্জ সার্কুলার রোডে নিয়মিত গান রচনা,সুরারোপ এবং কণ্ঠ দিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রেরণা জুগিয়েছিলেন তিনি।
স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে ‘পুত্রবধূ’ সিনেমায়‘গুরু উপায় বলো না’ জনপ্রিয় গানটি গেয়েছিলেন তিনি। সে গানটি মলয় কুমার গাঙ্গুলীকে তখন তুমুল জনপ্রিয়তা এনে দিয়েছিলো।তাঁর গাওয়া ‘আমার মনতো বসে না গৃহ কাজে সজনী গো’, ‘অন্তরে বৈরাগীর লাউয়া বাজে’-এর মতো গানগুলো এখনো মানুষের কণ্ঠে শোনা যায়।
তিনি ১৯৯০ সালে আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সম্মেলনের জন্য হাসান মতিউর রহমানের তৈরি করা ঐতিহাসিক গান ‘যদি রাত পোহালে শোনা যেত,বঙ্গবন্ধু মরে নাই।’ওই গানে সুরারোপ করেছিলেন।
মৃত্যুুর পর আনুষ্ঠানিক সম্মান বা স্বীকৃতির প্রতি কোনো আবেদন বা আকর্ষন খুব একটা ছিলো না তাঁর।সেই কথা জীবদ্দশায় তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে গেছেন বিভিন্ন মাধ্যমে।
বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশনের শিল্পী এবং কেন্দুয়া প্রেসক্লাবের সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক দিল বাহার খান জানান, তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি আমি ঢাকা থেকে প্রথমে নিশ্চিত হই। পরে বিভিন্ন মাধ্যমেও জানতে পারি। তাঁর মৃত্যুতে একজন কিংবদন্তি হারালো দেশ।তিনি আরো বলেন, মলয় দা’র ঢাকার আগারগাঁওয়ের বাসায় অনেকবার আপ্যায়িত হয়েছি আমি।তিনি ছিলেন অত্যন্ত বড় মনের মানুষ।
