সর্বশেষ
19 Mar 2026, Thu

-সৈয়দ সময়

যে বৃক্ষ ছায়া দেয় অথচ নিজেরই রোদে পোড়ে,
যে নদী স্রোত বয়ে নেয় অথচ নিজের তৃষ্ণা গোপন রাখে,
তোমার নামই তার প্রতিধ্বনি
হে পিতা, তুমি সেই নীরব মহাকাব্য,
যার প্রতিটি পঙ্‌ক্তি লেখা থাকে ত্যাগের অক্ষরে।

রাতের অন্ধকারে নিভু নিভু প্রদীপের পাশে
তোমার চোখে জেগে থাকে অগণিত অনিদ্রার নক্ষত্র,
আমাদের স্বপ্নের জন্য তুমি জাগো
নিজের ক্লান্তিকে মুছে ফেলো নিঃশব্দে,
যেন কোনো ইতিহাসে তোমার ব্যথার উল্লেখ না থাকে।

তোমার কাঁধে চেপে আমরা দেখেছি পৃথিবী,
তোমার হাত ধরে শিখেছি পথ চিনতে
তবু তুমি কখনো দাবি করো না কোনো কৃতিত্ব,
তুমি শুধু হেসে বলো
“তোমারই জয়, আমি তো পাশে ছিলাম মাত্র।”

হে পিতা,
তোমার ভালোবাসা কোনো উচ্চারণ চায় না,
তা মিশে থাকে রুটির গন্ধে, ঘামের লবণে,
নিস্তব্ধ বিকেলের দীর্ঘশ্বাসে,
আর ভোরের প্রথম আলোয়।
যখন জীবন ঝড় তোলে,
তোমার শেখানো সাহস বুকের ভেতর ঢাল হয়ে দাঁড়ায়,
তোমার নীরবতা তখন বজ্রের মতো শক্তি দেয়
আমি বুঝি, তুমি আছো,
আমার প্রতিটি শ্বাসে, প্রতিটি সিদ্ধান্তে।

তুমি সেই আকাশ,
যার নিচে আমরা ডানা মেলে উড়তে শিখি
তুমি সেই মাটি,
যার বুকে দাঁড়িয়ে আমরা স্বপ্ন গড়ি।

হে পিতা,
তোমার ঋণ কোনো শব্দে শোধ হয় না,
তবু এই কবিতা
তোমারই নামে, তোমারই জন্য,
আমার সমস্ত ভালোবাসার বিনম্র নিবেদন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *