
মাজহারুল ইসলাম উজ্জ্বল, কেন্দুয়া (নেত্রকোণা)প্রতিনিধিঃ
নেত্রকোণার কেন্দুয়ায় রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর এক নেতার উপস্থিতিতে প্রতিপক্ষকে গলা কেটে ফেলার হুমকির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ১১ সেকেন্ডের ওই ভিডিওটি নিয়ে স্থানীয় রাজনীতিতে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, নেত্রকোনা-৩ (কেন্দুয়া–আটপাড়া) আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী খায়রুল কবির নিয়োগীর পাশে দাঁড়িয়ে তার ভাতিজা জাকারিয়া নিয়োগী প্রকাশ্যে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে গলা কেটে ফেলার হুমকি দেন।জাকারিয়া নিয়োগী কিশোরগঞ্জের গুরু দয়াল সরকারি কলেজের খণ্ডকালীন শিক্ষক বলে পরিচিত।
ঘটনার সূত্রপাত হয় গত ১০ জানুয়ারি কেন্দুয়া উপজেলার রোয়াইলবাড়ি ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত এক দোয়া মাহফিলকে কেন্দ্র করে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও নেত্রকোনা-৩ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্ব ডা. রফিকুল ইসলাম হিলালী।দোয়া মাহফিলে আওয়ামী লীগের দুইজন হিন্দু কর্মী ও জামায়াতের চারজন কর্মী বিএনপিতে যোগদান করেন। অনুষ্ঠানে তাদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়।
এর পরদিন ১১ জানুয়ারি,নবাগত বিএনপি কর্মী হাফিজ উদ্দিন অটোরিকশাযোগে স্থানীয় বঙ্গবাজারে যাওয়ার পথে কলসহাটি শেখ বাড়ি মসজিদের সামনে হামলার শিকার হন বলে অভিযোগ ওঠে। তার দাবি, দুর্বৃত্তরা অটোরিকশা ভাঙচুর, মারধর এবং সঙ্গে থাকা ৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। এ ঘটনায় তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন এবং হামলাকারীদের আওয়ামী লীগের কর্মী হিসেবে উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে,অভিযুক্ত পক্ষের আজহার ইসলাম তামিম পাল্টা অভিযোগে বলেন, পূর্বশত্রুতার জেরে বঙ্গবাজারে তাদের মোবাইল ফোনের দোকানের সামনে ভিডিও ধারণকে কেন্দ্র করে তাদের মারধর করা হয় এবং মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয়।
এই ঘটনার প্রতিবাদে অভিযুক্তরা নিজেদের জামায়াত কর্মী দাবি করে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে একটি প্রতিবাদ সমাবেশ আয়োজন করে।ওই সমাবেশেই জামায়াত মনোনীত প্রার্থী খায়রুল কবির নিয়োগীর উপস্থিতিতে তার ভাতিজা জাকারিয়া নিয়োগী হুমকিমূলক বক্তব্য দেন। ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়-
“খুঁজে বের করতে হবে… ভবিষ্যতে যদি একটা কণ্ঠ উচ্চারিত হয়,গলা কাইট্টা ফালা হবে…”
ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
এ বিষয়ে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী খায়রুল কবির নিয়োগী বলেন, হুমকিমূলক বক্তব্যটি আবেগের বশে দেওয়া হয়েছে, যা অনাকাঙ্ক্ষিত। তিনি বলেন, “ওর এমন মন্তব্য ঠিক হয়নি। আমি তাকে শাসিয়েছি এবং এ জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি।”
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান ভূঁইয়া মজনু অভিযোগ করে বলেন, বিএনপিতে যোগদানের ঘটনাকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ও জামায়াতের কিছু নেতাকর্মী ক্ষিপ্ত হয়ে হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে। তিনি প্রকাশ্যে হুমকির ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
এ বিষয়ে কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী মাকসুদ বলেন, দুই পক্ষের কাছ থেকেই লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। গলা কেটে ফেলার হুমকির ভিডিওটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
