সর্বশেষ
13 Mar 2026, Fri

কেন্দুয়ায় যুবদল নেতার নেতৃত্বে গাছের ডুম আটকিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ

মাজহারুল ইসলাম উজ্জ্বল
কেন্দুয়া (নেত্রকোণা) প্রতিনিধিঃ

নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলায় এক যুবদল নেতার বিরুদ্ধে গাছের ডুম(কাটা গাছ) আটকিয়ে চাঁদাবাজি ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে।ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে উপজেলার সাহিতপুর বাজার এলাকায়।

অভিযুক্ত ব্যক্তি আব্দুল লতিব মিলন (৪৫)। তিনি সহিলাটি গ্রামের মৃত কিতাব আলীর ছেলে এবং রোয়াইলবাড়ি আমতলা ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,একই ইউনিয়নের কৈলাটি গ্রামের মরহুম অ্যাডভোকেট আব্দুর রাজ্জাকের ছোট ছেলে তারা মিয়া তার মালিকানাধীন কয়েকটি গাছ স্থানীয় কাঠ ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করেন। ব্যবসায়ীরা গাছ কেটে সেগুলো সাহিতপুর বাজারে নিয়ে যাওয়ার পথে অভিযুক্ত মিলন তার বাড়ির সামনে গাছগুলো আটকিয়ে দেন। স্থানীয়রা বারবার অনুরোধ জানালেও গাছগুলো ছাড়িয়ে নিতে ব্যর্থ হন।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ,দীর্ঘদিন ধরেই আব্দুল লতিব মিলন তারা মিয়া ও তার পরিবারের কাছে মোটা অঙ্কের টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় প্রতিশোধ হিসেবে গাছগুলো আটকানো হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র আরও জানায়, আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষের চলাচলের একমাত্র পথ অভিযুক্ত মিলনের বাড়ির সামনের রাস্তা দিয়ে। এ কারণে এলাকাবাসী একপ্রকার তার নিয়ন্ত্রণে জিম্মি অবস্থায় রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এর আগেও মিলন ও তার সহযোগীরা একাধিক নিরীহ মানুষকে মারধর করেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী দেলোয়ার হোসেন ভূঁইয়া দুলালের ছত্রচ্ছায়ায় মিলন দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। মিলন গংদের নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এলাকার অনেক মানুষ। বাড়ির সামনে দিয়ে যাতায়াত করার সময় তারা বিভিন্ন অজুহাতে হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।

অভিযোগ অস্বীকার করে মো. মিলন মিয়া মুঠোফোনে বলেন, ঘটনার বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। ঘটনার সময় আমি নেত্রকোণায় ছিলাম। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট।

এ বিষয়ে কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী মাকসুদ বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুলিশ জানায়, অভিযুক্ত মো. মিলন মিয়া ঘটনার পর থেকে আত্মগোপনে রয়েছেন।তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দাখিলের প্রস্তুতি চলছে বলে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *