
কোহিনূর আলম, কেন্দুয়া (নেত্রকোণা)প্রতিনিধিঃ
নেত্রকোণার কেন্দুয়ায় একঘরে করে রাখা নারীকে মারপিট, শ্লীলতাহানি এবং তার বাড়িতে হামলা,ভাঙচুর,স্বর্ণালংকার,সেলাই মেশিন ও নগদ অর্থ লুটপাটের অভিযোগ ওঠেছে।
ন্যায় বিচারের আশায় ভুক্তভোগী নারী থানায় করেছেন মামলা (চলমান),কোর্টেও তিনি করেন অভিযোগ।কোন রকম সুরাহা না পেয়ে নিরাপত্তাহীনতায় এখন তিনি নিজ বাড়ি ছাড়া।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার গড়াডোবা ইউনিয়নের বৃ-চিকনী গ্রামের মো.রহমত উল্লাহর স্ত্রী জোস্না আক্তারের (৪২) সাথে।
সরেজমিনে গিয়ে (২৭ ডিসেম্বর বিকালে)দেখা যায়, জোস্নার ঘরে তালাবদ্ধ। বাড়ির উঠোনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে ময়লার স্তূপ।দেখা হয় তার স্বামী মো.রহমত উল্লাহর সাথে। তালা খুলিয়ে অবশ্য কোন ভাঙচুরের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। মো. রহমত উল্লাহ বলেন,আমি বাড়িতে থাকি না।গত ১৬ ডিসেম্বর আমার স্ত্রীকে মারধরের ঘটনায় বাড়ি এসেছি।অসহায় ও গরিব মানুষ আমি,ন্যায় বিচার চাই।আজি রহমান (৪৫),শেফালী আক্তার (৩৭)সহ স্থানীয়দের অনেকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করলেও কে বা কারা এর সাথে জড়িত বলতে সাহস করেননি তারা। জোস্না আক্তার একঘরে ছিলো ও রক্তাক্ত ছিলো -কেবল এইটুকু বলে থেমে যান, শেফালী আক্তার। প্রতিবেশীদের অনেকে বলেন, আমরা কিছু জানি না।
অথচ জানা যায়, প্রতিপক্ষরা ভুক্তভোগী জোস্না আক্তারকে জমিসংক্রান্ত পূর্ব শত্রুতার জেরে প্রতিবেশী জামালের পুকুরের মাছ নিধনের মিথ্যা অভিযোগে জড়িয়েছেন মামলায় ;মারপিট করে করেছেন আহত। উপজেলা ও নেত্রকোণা সদর হাসপাতালে নিয়েছেন তিনি চিকিৎসা সেবাও।
কেন্দুয়া থানায় জোস্নার দায়েরকৃত (৫ ডিসেম্বর) হামলা,ভাঙচুর, মারধর ও লুটপাটের মামলায় আসামিরা জামিনে এসে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তাকে(১৬ ডিসেম্বর) ফের বেধড়ক পিটিয়ে আহত করে।
উক্ত ঘটনায় আহত হয়ে জোস্না আক্তার একই গ্রামের সুলতান মিয়া (৫৮), সুলতান মিয়ার ছেলে হৃদয় (৩৪), আঃ কদ্দুছের ছেলে জালাল মিয়া (৩০) ও জামাল মিয়া (৩৪)কে আসামি করে বিজ্ঞ আদালতে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। যার সি আর মোঃ নং-৩২১ (১) ২০২৫ ।
তাছাড়া ভুক্তভোগী জোস্না আক্তারের অগ্রহায়ণের ধানের ফসল জোরমূলে কেটে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
অভিযুক্তদের একজন জালাল মিয়া বলেন, হামলা, ভাঙচুর, লুটপাটের ও ফসল কাটার অভিযোগ মিথ্যা।তবে তার মুখের গালিগালাজের কারণে লাঠি দিয়ে দুইটা বারি মেরেছি।
জোস্নাকে একঘরের বিষয়টি স্বীকার করে এর পক্ষে ইসলামী যুব আন্দোলনের গড়াডোবা ইউনিয়নের সভাপতি ও জেলা শাখার সংখ্যালঘু বিষয়ক সম্পাদক মো.জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমরা একাধিকবার সমাধানের উদ্যোগ নিলেও জোস্না আক্তার রাজি না হওয়ায় সবাই মিলে একঘরে করেছি। কেনো রাজি হোন নি? জানতে চাইলে, তিনি সঠিক জবাব দিতে পারেননি।
জোস্না আক্তার তার লিখিত এক অভিযোগে উল্লেখ করেন,মাছ নিধনের ঘটনায় মিথ্যা অভিযুক্ত করে গ্রাম্য সালিসিতে ৬ লক্ষ টাকা জরিমানা করলে আমি না মানায় আমাকে মামলাসহ বিভিন্নভাবে হেনস্তা করছে একের পর এক। আমি এর সঠিক বিচার চাই।
এ বিষয়ে জোস্না আক্তারের নিযুক্ত আইনজীবী শাহ আলম শামীম মুঠোফোনে জানান, বিজ্ঞ আদালত বাদীর সার্টিফিকেট তলব করেছে। সার্টিফিকেট প্রাপ্তির পর কোর্ট আইনগত ব্যবস্থা নেবে।
