সর্বশেষ
13 Mar 2026, Fri

কেন্দুয়ায় উপজেলা চেয়ারম্যানের সরকারি বাসভবনে বসবাস করছেন সহকারী কমিশনার(ভুমি)



মাজহারুল ইসলাম উজ্জ্বল কেন্দুয়া(‎নেত্রকোণা)প্রতিনিধিঃ

‎নেত্রকোণা জেলার কেন্দুয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি আবাসনে বসবাস করছেন কেন্দুয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)।বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধি মহলে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

‎স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,উপজেলা চেয়ারম্যানের সরকারি বাসভবন উপজেলা পরিষদ আইন ও স্থানীয় সরকার (উপজেলা পরিষদ) বিধি অনুযায়ী কেবলমাত্র নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি-উপজেলা চেয়ারম্যানের দাপ্তরিক আবাস হিসেবে নির্ধারিত। এখানে কোনো ভূমি কর্মকর্তা বা অন্য কোনো সরকারি কর্মকর্তার বসবাসের বিধান নেই।

‎সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাজস্ব শাখায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অধীনে দায়িত্ব পালন করলেও উপজেলা চেয়ারম্যান স্থানীয় সরকারের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি-যা সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রশাসনিক কাঠামো। ফলে চেয়ারম্যানের কোয়ার্টারে ভূমি কর্মকর্তার বসবাস প্রশাসনিক কাঠামো ও সরকারি বিধিমালার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।


‎সরকারি কোয়ার্টার ব্যক্তিগতভাবে অন্যকে দিয়ে দেওয়া, ভাগাভাগি করা বা সাব-লিজ দেওয়া আইনত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। বরাদ্দ ছাড়া কেউ সরকারি বাসভবনে বসবাস করলে সেটি অনধিকার দখল ও সরকারি সম্পদের অপব্যবহার হিসেবে বিবেচিত হয়।

‎উপজেলা পরিষদের বাসা-বাড়ি কমিটির সদস্য সচিব কেন্দুয়া উপজেলা প্রকৌশলী আল-আমীন সরকার বলেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) কীভাবে বা কার অনুমতিতে উপজেলা চেয়ারম্যানের বাসভবনে থাকছেন,এ বিষয়ে আমাকে কেউ জানায়নি। লিখিত বা মৌখিক কোনো অনুমতির কপি আমার কাছে নেই। প্রশ্ন করা হলে তিনি আরও বলেন,‎সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আমাকে এ বিষয়ে কিছু জানায়নি বলেই আমি জানি না।

‎বিষয়টি জানতে চাইলে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. নাঈম–উল–ইসলাম চৌধুরী বলেন,ইউএনও স্যারের নির্দেশে এখানে থাকছি।এ বিষয়ে স্যারের কাছেই জানতে পারবেন।

‎এ বিষয়ে কেন্দুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা পরিষদের প্রশাসক ইমদাদুল হক তালুকদারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,আমি উপজেলা প্রশাসক,এটি আমার বাসা।আমার বাসায় কাকে রাখব না রাখব-এটা আমার বিষয়।লেইখ্যা দেন-ইউএনও বলছে,এটা আমার ব্যক্তিগত ব্যাপার।আমার এখন দুইটা বাসা,দুইটা গাড়ি।

‎তার বক্তব্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে, কারণ উপজেলা চেয়ারম্যানের সরকারি আবাস জনপ্রতিনিধির জন্য বরাদ্দ, ইউএনওর দাপ্তরিক বাসভবন আলাদা। তিনি উপজেলা প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করছেন তাই বলে চেয়ারম্যানের বাসভবন তিনি ব্যতীত অন্য কাউকে ব্যবহারের জন্য দিয়ে দিতে পারেন না।

‎বিষয়টি জানতে চাইলে নেত্রকোণা জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান বলেন-এটি উপজেলা প্রশাসক ও ইউএনওর বিষয়।

‎সরকারি ভবনে সাময়িকভাবে কোনো কর্মকর্তা থাকতে চাইলে জেলা প্রশাসক বা বিভাগীয় কমিশনারের লিখিত অনুমোদন প্রয়োজন হয়।তবে উপজেলা চেয়ারম্যানের সরকারি কোয়ার্টারে এমন অনুমোদন পাওয়া প্রায় বিরল, কারণ এটি সম্পূর্ণভাবে জনপ্রতিনিধির দাপ্তরিক বাসা।

‎এ বিষয়ে আরও জানা গেছে,উপজেলা চেয়ারম্যানের বাসভবনে সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর বসবাস নিয়মবহির্ভূত, অনধিকার দখল এবং অভিযোগযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *