
কোহিনূর আলম, কেন্দুয়া (নেত্রকোণা) প্রতিনিধিঃ
মো. বাবুল শেখ (৫৬), পিতা-মৃত আব্দুল কদ্দুস শেখ, মাতা-জুলেখা খাতুন।৩ বোন ও ২ ভাই তাঁর। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ৫ মেয়ে ও ২ ছেলে সন্তানের জনক।নেত্রকোণার কেন্দুয়ার চিরাং ইউনিয়নের ছিলিমপুর গ্রামের উত্তরপাড়ার বাসিন্দা তিনি। স্থানীয়ভাবে ডোম হিসেবে পরিচিত, অনেকের কাছেই তিনি হিন্দু, মুসলমান বা নাম, গোত্র ও ধর্ম পরিচয়হীন প্রায় ৭০০/৮০০ লাশ বা মৃতদেহ বহন করেছেন গত ৩৫ বছরে।
১৯৮৭/৮৮ সালের বন্যার সময় লাশ উদ্ধার ও বহনের কাজ শুরু তাঁর।তিনি জানান, মাসকা ইউনিয়নের আউজিয়া বাইঙ্গনি এলাকায় ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা করেছিলেন এক ব্যাক্তি। মাসকা ইউনিয়ন পরিষদের তখনকার চেয়ারম্যান মো.জহিরুল ইসলাম স্বপনের আহ্বানে ছুটে গিয়েছিলাম সেখানে।
মো. বাবুল শেখ আঙুলে গুনে টাউর করে বলেন,এ পর্যন্ত প্রায় ৭০০/৮০০ লাশ বহন করেছি। ঝড় বাদল যে কোন পরিস্থিতিতে সিএনজি গাড়ি দিয়ে লাশ আনা নেয়া করি। যখন যা পারিশ্রমিক পাই তা-ই নিই। এমনও হয়েছে নিজ হাত থেকে খরচ দিয়েছি!
লাশ বহনের কাজ করতে গিয়ে প্রথমে কিছু ভয় পেলেও এখন আর ভয় পান না তিনি। বরং পুলিশের সাথে লাশের প্রাথমিক সুরতহালও করে থাকেন এই বাবুল শেখ।তাছাড়া পারিবারিক ও সামাজিকভাবে বিভিন্ন সময় বাধা ও ঘৃণার সম্মুখীনও হয়েছেন তিনি। এখন আর কেউ কিছু বলেন না।
মো.বাবুল শেখ আক্ষেপ করে বলেন, প্রায় ৫/৭ মাস আগে ১ লাখ টাকা ঋণ করে ও অনেকের কাছ থেকে সাহায্য সহযোগিতা নিয়ে দেড় লাখ টাকায় একটি সিএনজি ক্রয় করেছিলাম। ঋণের কিস্তি দিতে খুব কষ্ট পোহাতে হচ্ছে। তবে কেন্দুয়া থানা অফিসার ইনচার্জ ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর আর্থিক অনুদানের জন্যে আবেদন করেছি।অপেক্ষায় আছি নতুন বছরের।
অপমৃত্যু বা অস্বাভাবিক মৃত্যুর লাশ বহন করা ছাড়া অর্থ উপার্জনের জন্যে আরো কিছু করেন কিনা জানতে চাইলে, তিনি বলেন, যে গাড়িতে লাশ আনা-নেয়া করি, সেই গাড়িতে যাত্রী ওঠবে না। তাই ভাড়া করে অন্যের গাড়িতে যাত্রী আনা নেয়া করেও কিছু আয় রোজগারের মাধ্যমে টেনেটুনে সংসার চালাই।
দীর্ঘ ১৫ বছর যাবত থানা শ্রমিক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে প্রায়শই আওয়ামী লীগের রোষানলে পড়ে মামলা মোকদ্দমায় হয়রানির শিকার হয়েছেন বলেও তিনি দাবি করেন।তবে পুলিশের সাথে সব সময়ই তাঁর একটি বিশ্বাসযোগ্য সম্পর্ক ছিলো।
কেন্দুয়া থানা অফিসার ইনচার্জ মিজানুর রহমান মো. বাবুল শেখ সম্পর্কে বলেন,মো. বাবুল শেখ অত্যন্ত পরিশ্রমী ও দায়িত্বশীল একজন মানুষ।কেন্দুয়া পুলিশ প্রশাসনের সাথে তাঁর একটি ভালো সম্পর্ক রয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইমদাদুল হক তালুকদার (বিদায়ী) বাবুল শেখের আর্থিক আবেদনের বিষয়ে জানান, এ মুহূর্তে আর্থিক অনুদান দেয়া সম্ভব নয়।তাছাড়া সরকারি নিয়মের ভেতরও পড়ে না।
