
মাজহারুল ইসলাম উজ্জ্বল
কেন্দুয়া (নেত্রকোণা) প্রতিনিধিঃ
নেত্রকোণার কেন্দুয়া পৌর এলাকায় এক নাবালিকা মাদ্রাসাছাত্রীকে অপহরণের চেষ্টা, শারীরিক নির্যাতন ও স্বর্ণালঙ্কার লুটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়,গত বুধবার (৩১ ডিসেম্বর ২০২৫) বিকাল আনুমানিক ৩টা ৪০ মিনিটে কেন্দুয়া পৌরসভাধীন ওয়াশেরপুর জামিয়া ইসলামিয়া কওমী মহিলা মাদ্রাসার অদূরে সরকারি পাকা সড়কে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী ছাত্রী মাদ্রাসা ছুটি শেষে বাসায় ফেরার পথে পূর্বপরিকল্পিতভাবে লস্করপুর গ্রামের লাদেন (২১) ও কেনু মিয়া (৩৫) সহ আরও তিনজন অজ্ঞাত ব্যক্তি পথরোধ করে তাকে জোরপূর্বক অপহরণের চেষ্টা চালায়।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্তরা নাকে-মুখে কাপড় চেপে ধরে অটোরিকশায় তুলে মেয়েটিকে নিয়ে যায় এবং কান্দিউড়া গ্রামের পেছনে শ্মশানখলায় গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখে। এ সময় তার গলায় থাকা স্বর্ণের চেইন, কানের দুল, আংটি, রুপার নুপুর, ব্রেসলেট ও ঘড়িসহ প্রায় ২ লাখ ১২ হাজার টাকা মূল্যের অলঙ্কার ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
ভুক্তভোগীর এক সহপাঠী ও স্থানীয়দের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা মেয়েটিকে বেঁধে রেখেই পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় মেয়েটিকে উদ্ধার করা হয়।
ভুক্তভোগীর পরিবার জানায়, এর আগেও অভিযুক্ত লাদেন মেয়েটিকে উত্যক্ত ও অপহরণের চেষ্টা করেছিল এবং স্থানীয়ভাবে সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা হয়েছিল। বর্তমানে ভুক্তভোগী পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
অভিযুক্ত কেনু মিয়ার সাথে কথা বললে তিনি অভিযোগের বিষয়টি সম্পূর্নভাবে অস্বীকার করেন। তিনি আরো বলেন, এলাকাবাসীর সাথে কথা বললে বিষয়টি কতটুকু সত্য মিথ্যা তা আপনারাও জানতে পারবেন।
স্থানীয় রবি মিয়া জানান,ঘটনাটি সাজানো এবং বানোয়াট।কেনু মেম্বারকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য একটা চক্রান্ত।এ ঘটনার বিষয়ে বলাইশিমুল ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ইদ্রীছ আলী মুঠোফোনে বলেন,ঘটনাটি সম্পুর্ণ মিথ্যা।
এ ঘটনায় কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী মাকসুদ জানায়,অভিযোগটি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
