
কোহিনূর আলম, কেন্দুয়া (নেত্রকোণা) প্রতিনিধিঃ
গত ২৩ জুন থেকে ২৬ জুন বিয়ের দাবিতে চারদিনের অনশন ভাঙিয়ে অবশেষে প্রেমিকাকে নিজ গৃহে ফেরত পাঠালেন কেন্দুয়ার স্থানীয় প্রশাসন ও নেতৃবৃন্দ ।
নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলার নওপাড়া ইউনিয়নের বহুলী গ্রামের মৃত শাহজাহান মিয়ার মেয়ে (প্রেমিকা) হাফসা আক্তার ও পার্শ্ববর্তী ইটাচকি গ্রামের মৃত সিদ্দিক উদ্দিনের ছেলে (প্রেমিক) আলিম উদ্দিনের মধ্যে চলা কয়েকদিনের নানা ঘটনা অবশেষে স্হানীয় প্রশাসনের মধ্যস্থতায় সমাধানের একটা পথ পেল।
গত বৃহস্পতিবার (২৬ জুন)বিকাল থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত স্থানীয় প্রশাসন ও নেতৃবৃন্দের উদ্যোগে উভয়ের পরিবারের সাথে দীর্ঘ আলোচনা, প্রেমিকা হাফসা আক্তারকে কাউন্সিলিং এবং প্রেমিক আলিম উদ্দিন বিদেশে পালিয়ে যাওয়ায় তদন্ত সাপেক্ষে তাকে ফিরিয়ে এনে দুজনকে এক করে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাকে তার নিজ গৃহে ফিরিয়ে দেয়া হয় ।
হাফসা আক্তারকে তার নিজ গৃহে ফিরিয়ে দেয়া প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইমদাদুল হক তালুকদার মুঠোফোনে (২৭জুন) জানান, হাফসাকে কাউন্সিলিং করেছি । বুঝাতে সক্ষম হয়েছি – আমরা সবাই তার পাশে আছি । সর্বোপরি হাফসার নিরাপত্তার কথা ভেবেই তার নিজ গৃহে ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে। তিনি আরো বলেন, কেউ অপরাধ করে দেশের বাইরে চলে গেলেও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও আমাদের কাছে সব রেকর্ড থাকে । তদন্ত সাপেক্ষে আলিম উদ্দিনকেও দেশে ফিরিয়ে এনে দু’জনকে একত্রিত করে দেয়ার আশ্বাস দিয়েছি। এক্ষেত্রে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দ ও উভয় পরিবারের লোকজন সহযোগিতা করেছেন।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান এডভোকেট সারোয়ার জাহান কাওছার মুঠোফোন বলেন, আলিম উদ্দিন মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমিয়েছেন। তাই স্থানীয় প্রশাসন, নেতৃবৃন্দ ও উভয় পরিবারের সহযোগিতায় হাফসাকে তার বাড়ি পৌঁছে দিয়েছি । তিনি আরো বলেন,দু’জনকে এক করে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাকে ফিরিয়ে দিয়ে এসেছি বহুলী গ্রামে তার বাড়িতে ।
আলিম উদ্দিনের বড় ভাই মোঃ ইসলাম উদ্দিনের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ইউএনও স্যার, এসিল্যান্ড স্যার, মহিলা ও শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা ম্যাডাম ও উপজেলা তথ্য আপাসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ তাকে (হাফসা আক্তার) বাড়ি পৌঁছে দিয়েছেন । তিনি আরো বলেন, স্যারেরা যে সিদ্ধান্ত দিবেন ও আমার ভাই যদি হাফসাকে মেনে নেয় আমার কোন আপত্তি নেই।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী (প্রেমিকা) হাফসা আক্তার মুঠোফোনে জানান, আলিম উদ্দিন বিদেশে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। তাই উপস্থিত সবাই আমাকে আশ্বস্ত করেছেন সে ফিরে এলে বা ফিরিয়ে এনে আমার দাবি পূরণ করবেন । তিনি আরো বলেন, বাড়িতে আসার পর থেকে আমার পরিবারের লোকজন আমার সাথে কথা বলছেন না। আমি ভালো নেই।
উল্লেখ্য,এর আগে গত মে মাসে ঈদুল আজহা উপলক্ষে আলিম উদ্দিন বিদেশ থেকে দেশে ফিরে এলেও বিয়ের কথা বলাতে হাফসার সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। এই অভিযোগে, গত ২৩জুন ১৪ বছরের প্রেমের সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও তাকে বিয়ের স্বীকৃতি না দেয়ায় বিয়ের দাবিতে আলিম উদ্দিনের বাড়িতে এসে অবস্থান অনশন শুরু করেন (প্রেমিকা) হাফসা আক্তার । এবং তাদের সম্পর্কের প্রমাণস্বরূপ ফেইসবুক মেসেঞ্জারে কল ও চ্যাটিং তুলে ধরেন । তাছাড়া মৌখিকভাবে দু’জনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
